বিলোনিয়া প্রতিনিধি, ২ সেপ্টেম্বর: হায়রে কপাল, মায়ের কোলেই আগুনে ঝলসে গেল দেড় বছরের শিশুসন্তান। ছোট্ট মেঘা কাতর যন্ত্রণায় চলে গেল না ফেরার দেশে। তাছাড়া ৯০% এর আগুনে পুড়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে অগ্নিদগ্ধা মা সুপর্ণা। প্রকাশ্য দিবালোকে… বিলোনিয়া মহকুমাধীন নলুয়ার বরোজ কলোনি শ্বশুরবাড়িতে- অগ্নিদগ্ধা গৃহবধূ সহ …দেড় বছরের কন্যাসন্তানের গায়ে অগ্নিকাণ্ড নিয়ে উঁকি দিচ্ছে প্রচুর প্রশ্ন? কিভাবে লাগল এই আগুন? বাড়িতে কে কে ছিল তখন? স্বামী রঞ্জিত মজুমদার কোথায় ছিলেন? পার্শ্ববর্তী বাড়িগুলো প্রথমে টের পাইনি কেন? বাড়িতে কি হয়েছিল গতকাল রাতে? গতকাল রাতে কি রান্না হয়েছিল, যদি রান্না হয়ে থাকে …তবে কে করেছিল এই রান্না ? যেই দোকানের শাশুড়ি বসেছিল, সেই দোকান থেকে বাড়ির দূরত্ব কত? দোকানে থাকা শাশুড়ি কতটা চেষ্টা করেছিল ওদেরকে বাঁচানোর। কিভাবে হয়ে গেল এত বড় অঘটন। যেই মা….. ১০ মাস ১০ দিন গর্ভধারণ করে সন্তানকে জন্ম দিয়েছেন ,সেই সন্তানকে নিয়ে যদি শ্বশুরবাড়িতে সুখে শান্তিতেই থাকে, তাহলে ফুটফুটে সন্তানকে কোলে নিয়ে গায়ে আগুন দেবে কেন? গৃহবধুর গায়ে আগুন যদি আকস্মিক লেগেই থাকে, তাহলে মা হয়ে সন্তানকে বাঁচাবেন? নাকি দেড় বছরের কন্যা সন্তানকে কোলে তুলে নেবেন পুড়িয়ে মারার জন্য!? এসব প্রশ্নের উত্তর কিছুতেই মেলাতে পারেনি হাসপাতালে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবে প্রথম দফায়, বিলোনিয়া হাসপাতালে স্বামী ছাড়া শ্বশুরবাড়ির কেউ না আসলেও …পরবর্তী সময়ে হাসপাতালে আসা শ্বশুর এবং শাশুড়ির চোখে.. একটু হতাশা… কিংবা এক ফোটা জল খুঁজে পায় নি কেউ। কিংবা নিজের ছেলের একটিমাত্র কন্যাসন্তান এবং আগুনের ঝলসে যাওয়া পুত্রবধূর জন্য একটু আফসোস করতে দেখা যায়নি কাউকে, এমনটাই গুঞ্জন চলছিল গোটা হাসপাতাল চত্বরে। মৃত কন্যাসন্তান মেঘার নিথর দেহ রাখা হয়েছে ..বিলোনিয়া হাসপাতাল মর্গে,আর ঝলসে যাওয়া মা কে রেফার করা হয়েছে আগরতলা জিবি হাসপাতালে। না ফেরার দেশে চলে যাওয়া.. ছোট্ট মেঘাকে আর দেখবে না মা, সেটা যেমন সত্য, তেমনি আগুনে ঝলসে যাওয়া সুপর্ণাও বাড়িতে ফিরে আসতে পারবে কিনা.. সেটাও অনেকটা অনিশ্চিত বলে দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। একদিকে ছোট্ট মেঘার নিথর দেহ, অন্যদিকে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করা মা সুপর্ণা… মাঝে রয়েছে হাজারো প্রশ্ন। মেয়ের মৃত্যু নিয়ে কি বলছেন বাবা এবং পিসি শুনুন সাফ কথার পর্দায়।
4
