Home রাজ্যছাওমনুতে সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, ভাইরাল ৩টি ভিডিও ঘিরে নতুন বিতর্ক

ছাওমনুতে সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, ভাইরাল ৩টি ভিডিও ঘিরে নতুন বিতর্ক

by Pravakar Baidya
0 comments 11 views

নিজস্ব প্রতিনিধি,২০ জুলাই : সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে ছাওমনুতে বিতর্ক, নতুন ভিডিওকে কেন্দ্র করে উঠছে নানা প্রশ্ন কয়েকদিন আগে আমাদের প্রকাশিত সংবাদ সরকারি প্রকল্প নিয়ে ক্ষোভ, দল ছাড়ছেন বিজেপি কর্মীরা! ছাওমনুতে অনুপ সরকারকে ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক শীর্ষক সংবাদে লংথারাইভ্যালি মহকুমার ৪৯-ছাওমনু বিধানসভা এলাকায় সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আদায়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিজেপি নেতা অনুপ সরকারকে ঘিরে কর্মীদের অসন্তোষের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। সংবাদে স্থানীয় কর্মীদের অভিযোগ ছিল, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, উজ্জ্বলা যোজনা, শৌচালয় প্রকল্প এবং রেগা (MGNREGA) কাজের ক্ষেত্রে অর্থ আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তাঁদের দাবি, অভিযোগের বিষয়ে দলীয় নেতৃত্ব কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় অনেক কর্মী বিজেপি ছেড়ে তিপ্রা মথায় যোগ দিয়েছেন।
এরই মধ্যে গতকাল ধলাই জেলার ছৈলেংটা এলাকার লংতরাই পাড়া গ্রামের বাসিন্দা প্রণব দাস সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে তাঁর কাছ থেকে ১৩ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগে স্থানীয় বিজেপি নেতা অনুপ সরকার ও নিরু দাসের নাম উঠে আসে। অভিযোগসংবলিত তাঁর দুটি পৃথক ভিডিও প্রকাশ্যে আসে, যেখানে তিনি একই ধরনের অভিযোগ করেন। ভিডিও দুটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ার পর বিষয়টি জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে, সংবাদ প্রকাশের পর অভিযুক্তরা প্রণব দাসের বাড়িতে যান। এরপর প্রণব দাসের তৃতীয় একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। ওই ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, আমাকে মদ খাইয়ে রাজীব সরকার (ওরফে চিকু) ওই অভিযোগের কথা বলিয়েছিলেন। তবে এখানেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। কারণ, ১৩ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগসংবলিত দুটি ভিডিওতেই কোথাও অভিযোগকারীকে জোরপূর্বক, ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বা কোনো প্ররোচনার মাধ্যমে বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়েছে এমন কোনো দৃশ্য প্রকাশ্যে দেখা যায় না কে দেখা যাচ্ছে, জিনিস স্বেচ্ছায় ক্যামেরার সামনে এই বক্তব্য দিয়েছেন।। এরপর তৃতীয় ভিডিওতে সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, অভিযোগকারীর প্রথম দুই ভিডিও এবং পরবর্তী তৃতীয় ভিডিওর বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট অসঙ্গতি রয়েছে। এ কারণে অনেকেই বিষয়টিকে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা বলে মন্তব্য করছেন। তবে এটি স্থানীয়দের মতামত এর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এদিকে, অনুপ সরকারকে ঘিরে সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ এবং সাম্প্রতিক ১৩ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ দুই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে ছাওমনু এলাকায় রাজনৈতিক আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই ঘটনায় কোনো পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা উচিত। এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে অভিযোগে নাম উঠে আসা অনুপ সরকার ও নিরু দাস কিংবা বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে এখন সবার নজর প্রশাসনের সম্ভাব্য তদন্ত এবং তার ফলাফলের দিকেই।

Leave a Comment