নিজস্ব প্রতিনিধি, শান্তিরবাজার,প্রভাকর বৈদ্য,৭ অক্টোবর: রাবার চোর সন্দেহে এক যুবককে সারারাত ধরে বেধড়ক মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সাবরুম মহকুমার হরিনা শিব মন্দির সংলগ্ন এলাকায়। অভিযোগ, মারধরের জেরে গুরুতর আহত হয়ে ওই যুবকের একটি পা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি।
আক্রান্ত যুবকের নাম সুশান্ত দেবনাথ, বয়স ২৭ বছর বলে জানা গেছে।
আক্রান্ত যুবকের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৪ তারিখ রাতে তিনি তাঁর মাসিকে বাইকে করে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে নিজ বাড়ির উদ্দেশে ফিরছিলেন। হরিনা শিব মন্দির সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছানোর পর তাঁর বাইকটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। বাইকটি পুনরায় স্টার্ট করার সময় এক ব্যক্তি তাঁকে রাবার চুরির সন্দেহে আটক করেন বলে অভিযোগ।
সুশান্তের দাবি, এরপর তাঁকে সারারাত ধরে মারধর করা হয়। এমনকি গলায় দড়ি দিয়ে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে মারধর করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। দীর্ঘক্ষণ মারধরের ফলে তাঁর পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে।
আরও গুরুতর অভিযোগ, সকালে পুলিশকে খবর দেওয়ার পরও পুলিশের উপস্থিতিতে তাঁকে মারধর করা হচ্ছিল বলে দাবি করেছেন আক্রান্ত যুবক। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারী পরিবারের দাবি, পরবর্তীতে সুশান্তের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয় এবং টাকা নিয়ে আসার কথাও বলা হয়। পাশাপাশি, যুবকের সঙ্গে রাবারের স্ক্র্যাপ দিয়ে তাকে চোর প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয় বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
সুশান্তের মা জানান, ঘটনার দিন তাঁর ছেলে মাসিকে বাইকে করে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দিতে গিয়েছিল। সেখানে খাওয়া-দাওয়া করার পর রাতে বাড়ি ফেরার পথেই এই ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে, তাঁর নাম সজু দেবনাথ বলে জানা গেছে। তিনি হরিনাথ শিব মন্দির সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় পান বিক্রেতা বলে পরিবারের দাবি।
ঘটনার পর আহত অবস্থায় সুশান্তকে প্রথমে সাবরুম মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান তাঁর মা-বাবা। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে রেফার করেন।
বর্তমানে শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুশান্ত। পরিবারের দাবি, তাঁর অবস্থা এতটাই গুরুতর যে তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারছেন না। হুইলচেয়ারের সাহায্যে তাঁকে চলাফেরা করতে হচ্ছে। পরিবারের অভিযোগ, তাঁর একটি পা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ে সুশান্তের মা জানান, ছেলের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এখনও থানায় লিখিত মামলা করতে পারেননি তাঁরা। তবে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং তাঁর ছেলের ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
রাবার চুরির সন্দেহে একজন যুবককে আটক করে সারারাত মারধর এবং তাঁর গুরুতর আহত হওয়ার অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিযোগের সত্যতা কতটা, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং পুলিশের ভূমিকা কী ছিল—তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

