নিজস্ব প্রতিনিধি, শান্তিরবাজার, ৯ অক্টোবর: দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা ও পরিকাঠামো নিয়ে ফের গুরুতর অভিযোগ উঠল। চিকিৎসায় গাফিলতি, সময়মতো অক্সিজেন না দেওয়া, অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা না পাওয়া এবং মৃতদেহের ময়নাতদন্তে দীর্ঘ বিলম্বের অভিযোগ তুলেছেন এক মৃত রোগীর পরিবারের সদস্যরা। শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শান্তিরবাজার মহকুমার বগাফা এলাকার লংকাজয় পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল আলীকে(৩৭) অসুস্থ অবস্থায় শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর রাতেই ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী, পরদিন সকাল ১০টায় পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে পৌঁছালেও বিকেল ৩টা পর্যন্ত ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়নি বলে অভিযোগ। ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় শান্তিরবাজার থানার পুলিশও হাসপাতালে অপেক্ষা করছিল বলে পরিবারের দাবি। মৃতের ভাই মস্তান আলীর অভিযোগ, হাসপাতালে নিয়ে আসার পর কর্তব্যরত এক চিকিৎসক রোগীকে আগরতলায় রেফার করার পরামর্শ দেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে চিকিৎসকের শিফট পরিবর্তন হলে অন্য এক চিকিৎসক রোগীকে শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালেই রেখে চিকিৎসা চালানোর কথা বলেন। পরিবারের দাবি, ওই চিকিৎসক কয়েকটি পরীক্ষা করিয়ে আনতে বলেন। কিন্তু রাতে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালের সামনের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাতে যান। তাঁদের অভিযোগ, পরীক্ষা করানোর জন্য বাইরে যাওয়ার পর হাসপাতালে ফিরে এসে তাঁরা রোগীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরিবারের আরও অভিযোগ, রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়া সত্ত্বেও সময়মতো অক্সিজেন দেওয়া হয়নি এবং প্রয়োজনের সময় অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবাও পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি হাসপাতালের মর্গে মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত ফ্রিজিং ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, মৃতদেহ সংরক্ষণের উপযুক্ত ব্যবস্থা নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আরও যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। মৃতের পরিবারের আরেক আত্মীয়া সেলিনা খাতুনও হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, রোগীদের সঙ্গে শান্তির বাজার জেলা হাসপাতালে যথাযথ মানবিক আচরণ করা হয় না এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রত্যাশিত পরিষেবা পাওয়া যায় না। উল্লেখ্য, শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালের পরিষেবা ও পরিকাঠামো নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ সামনে এসেছে বলে স্থানীয় মহলে দাবি। আব্দুল আলীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পরিবারের পক্ষ থেকে ওঠা এই অভিযোগগুলির পর হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা, জরুরি ব্যবস্থাপনা এবং রোগীদের প্রতি দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।
