নিজস্ব প্রতিনিধি, শান্তিরবাজার, ২আগস্ট: দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা সহ গোটা দেশ আজ গর্বিত। ভারতের ক্রীড়া ইতিহাসে যুক্ত হলো এক নতুন গৌরবগাথা। ২৩তম কমনওয়েলথ গেমসে জুডোতে স্বর্ণপদক জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন ত্রিপুরার দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বিলোনিয়া মহকুমার অন্তর্গত সোনাইছড়ির কৃতি কন্যা অস্মিতা দে।
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতার মহিলাদের ৪৮ কেজি ওজন বিভাগের ফাইনালে কানাডার শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীকে “গোল্ডেন স্কোর”-এ পরাজিত করে ভারতের ঝুলিতে এনে দিলেন প্রথম স্বর্ণপদক। একই সঙ্গে কমনওয়েলথ গেমসে জুডোতে স্বর্ণজয়ী প্রথম বাঙালি হিসেবেও নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখলেন তিনি। বর্তমানে উত্তরপ্রদেশ পুলিশে সাব-ইন্সপেক্টর পদে কর্মরত অস্মিতা দে। তাঁর পোস্টিং গাজিয়াবাদে হলেও তিনি বারাণসীতে বসবাস করেন। তবে তাঁর শিকড় দক্ষিণ ত্রিপুরার বিলোনিয়া মহকুমার প্রত্যন্ত দক্ষিণ সোনাইছড়ি গ্রামে। প্রয়াত অর্জুন দে ও মুন্নি পাটারীর কনিষ্ঠ কন্যা অস্মিতার এই সাফল্যে আজ গর্বিত সমগ্র ভারত, গর্বিত ত্রিপুরা, বিশেষ করে দক্ষিণ ত্রিপুরার মানুষ।
অস্মিতার এই সাফল্য কেবল একটি স্বর্ণপদক জয়ের গল্প নয়; এটি সীমাহীন সংগ্রাম, কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য উদাহরণ। দুই বোন ও এক ভাইয়ের সংসারে সবচেয়ে ছোট মেয়ে হয়েও প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে তিনি আজ বিশ্বমঞ্চে ভারতের পতাকা উড়িয়েছেন। এই খুশির মুহূর্তে দক্ষিণ ত্রিপুরা শান্তিরবাজার শাখা State Bank of India ব্যাঙ্কের Chief Manager সিদ্ধার্থ শংকর ভৌমিক এবং Deputy Branch Manager উৎপল দাস সশরীরে অস্মিতার বাড়িতে যান। তাঁরা অস্মিতার মা মুন্নি দে এবং তাঁর ভাই দেবব্রত দে-র হাতে অস্মিতার এই অসাধারণ কৃতিত্বের একটি বাঁধানো ছবি তুলে দেন এবং তাঁকে উষ্ণ সংবর্ধনা ও সম্মান জানান।অস্মিতা দে-র এই অর্জন আমাদের রাজ্য তথা সমগ্র দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস।
